বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২১ অপরাহ্ন

গরমের পোশাক কেমন হওয়া উচিত?

সুদীপ দেবনাথ রিমন / ১৪৮ /২০২১
প্রকাশকালঃ বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১

গরমের পোশাক কেমন হওয়া উচিত?

ঋতু পরিবর্তনের সাথে ফ্যাশন এবং আরামের কথা মাথায় রেখে আমাদের পোশাকের রুচিতেও আসে ভিন্নতা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কেমন হওয়া উচিত গরমের পোশাক? এ নিয়ে প্রায়ই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় আপনাদের। তাই আজ জেনে নিন কেমন পোশাকে আরামেই কাটাবেন এবারের গরম।

ফ্যাশন এবং আরামের বিষয় মাথায় রেখেই পশাকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে এই গরমে অবশ্যই কৃত্রিম সব পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে। পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে একদিক থেকে যেমন গরম কম লাগবে, অন্যদিকে আরামও লাগবে। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাবে। পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাকও এ সময় পরা যায়। গরম এলেই সুতি কাপড়ের প্রসঙ্গ চলে আসে। গ্রীষ্মের এ লু হাওয়াকে সামলাতে এখনই খুঁজে নিতে পারেন পাতলা ফিনফিনে সুতিতে কাজ করা কামিজ। শিফনের ওড়না বা শর্ট শার্টও বেশ আরাম হয়। আরও নজর রাখুন সিল্ক, চিকেন, চোষা কাতান আর অরবিন্দুসহ বাহারি পোশাকে।

গরমে পোশাকের রঙ ও কাপড়ঃ গরমের পোশাকটা হালকা ও আরামদায়ক হওয়াই ভালো। খেয়াল রাখতে হবে পোশাকটা যেন তাপ শোষণ করে কম। তাই প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য সুতি কাপড়ই আরামদায়ক। এছাড়া লিনেন, দুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, চিকেন ও তাতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী। উৎসবে পরতে পারেন কৃত্রিম মসলিন বা পাতলা চোষা কাতান। গরমে চোখের আরাম বলেও একটা কথা আছে। সেদিক থেকে ভাবলে সাদা রঙই আদর্শ। তারপরও হালকা গোলাপি, জলপাই সবুজ, শ্যাওলা সবুজ, হালকা নীল, হালকা হলুদ, ঘিয়ে এসব রঙের হালকা শেড এবং টারশিয়ারি রঙগুলোও গরমে উপযোগী। কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক একেবারেই নয়। কারণ এসব রঙ অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে।

রকম ভেদে পোশাকের দরদাম, পরিমাণ ও প্রাপ্তিস্থলঃ বাজারে গজ কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। আছে মসলিন, অ্যামব্রয়ডারি করা সুতি কাপড়, লেস লাগানো সুতি কাপড়, চিকেন কাপড়, ওয়াটার প্রিন্ট ইত্যাদি। মসলিন কাপড় প্রতি গজ ১২০ থেকে ১৫০, অ্যামব্রয়ডারি করা সুতি কাপড় ২৫০ থেকে ৪০০, লেসসহ সুতি কাপড় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। চিকেন কাপড়ের মধ্যে দেশি-বিদেশিসহ আছে নানা ভ্যারিয়েশন। প্রতি গজের দাম পড়বে ১৮০ থেকে ১২০০ টাকা। লেসসহ সুতি চেক ২০০ থেকে ৩৫০, কাতান মোটিফের সুতি কাপড় প্রতি গজ ৪০০, পয়সা মোটিফের প্রতি গজ ২৩০, পাড়সহ বুটি দেয়া প্রতি গজ সুতি কাপড় ২২০, প্রতি গজ সিল্কের দাম ১৫০ থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। স্বর্ণ কাতান ১২০ টাকা। তাঁতের কাপড় কোয়ালিটি অনুযায়ী প্রতি গজ ৫০ থেকে ১৩০ টাকা।

ঢাকার গজ কাপড়ের বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে আছেঃ নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, ইসলামপুর ও মৌচাক। ইস্টার্ন প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, পিংক সিটি, মাসকট প্লাজা, নর্থ টাওয়ার, রাইফেলস স্কয়ারেও পাওয়া যাবে এসব কাপড়। গজ কাপড় কেনার ক্ষেত্রে বহরটা জেনে নিতে হবে। দুই থেকে সাড়ে তিন হাত পর্যন্ত বহর হয় এ কাপড়ের।

ছেলেরা শার্টের জন্য পিস হিসেবে কাপড় কিনতে পারেন। দেখে নিন গরমে পরার উপযোগী কিনা। দাম নির্ভর করবে কাপড়ের মানের ওপর। প্রতি পিস ইয়ার্ন ডাইড চেক ফেব্রিকের দাম ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এক কালার কটন ২৫০ থেকে ৮০০, প্রিন্টেড ফেব্রিক ৩০০ থেকে ১৫০০ ও সুতি স্ট্রাইপ ৬০০ থেকে ২৫০০ টাকা। কাপড়ের বহর ৬০ ইঞ্চি হলে হাফ শার্টে দেড় গজ ও ফুল শার্টের জন্য প্রায় ২ গজ কাপড় লাগবে। বহর যদি ৪৫ ইঞ্চি হয় তবে হাফ শার্টে ২ গজ ও ফুল শার্টে আড়াই গজ, বহর ৩৬ ইঞ্চি হলে হাফ শার্টে ৩ গজ ও ফুল শার্টে সাড়ে তিন গজ কাপড় লাগবে। এসব কাপড়ের বড় মার্কেট এলিফ্যান্ট রোড ও বঙ্গবাজার। এছাড়া বিভিন্ন টেইলারিং শপেও শার্টের কাপড় কেনা যায়। নকশা ও সাজসজ্জা ক্রুশের লেসের জালি জালি নকশাটা গরমের জন্য ভালো। হালকা এক রঙা গজ কাপড় কিনে গলায় বা জামার সামনের অংশে এবং হাতে ক্রুশ কাঁটার লেস বসালে ভালো লাগবে। আবার সালোয়ারের নিচ থেকে ছয় ইঞ্চি ওপরেও লেস বসাতে পারেন। কামিজের হাতা সস্নিভলেস বা ম্যাগি করতে পারেন।

ফ্যাশনে ভিন্নতাঃ রোদ এড়াতে থ্রি কোয়ার্টার বা ফুল হাতা বানানো যায়। সে ক্ষেত্রে জামার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে মসলিনের কাপড় ব্যবহার করুন। ডিজাইনটাও একটু অন্যরকম হবে। একরঙা পোশাক পরতে না চাইলে সুতি চেক কাপড়ের কামিজ বানানো যেতে পারে। তবে চেক কাপড়ে কামিজের চেয়ে ফতুয়াই বেশি ভালো লাগবে। এছাড়া বাটিক, চিকেন বা টাইডাইয়ের পোশাকও গরমে আরামদায়ক।

ছেলেদেরঃ ছেলেদের পোশাকে গরমে প্রিন্টেড বা চেক কাপড়ের শার্ট আরামদায়ক। কাপড়ের কনস্ট্রাকশনটা শতভাগ সুতি হলেই ভালো। আর ধরনটা হবে হাওয়াই। এ শার্টের সাইড ওপেন থাকে ও হাফ হাতার হয়। একটু ঢিলেঢালা শার্ট পরলে ঘামে কাপড় নষ্ট হবে না। হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করাই ভালো, যেমন সাদা, হালকা বেগুনি, প্রিন্ট্রেড ফেব্রিক ও লাইট চেক। সাদার মধ্যে আবার আছে নানা ভ্যারিয়েশন। একরঙা ব্যান্ড কলারের ফতুয়াও পরতে পারেন। সাইড ওপেন ফতুয়া গরমে স্বস্তিকর।

মেয়েদেরঃ গরমে মেয়েদের সাজসজ্জার ক্ষেত্রে কানে মুক্তার ছোট দুল এবং গলায় সরু চেইনের সঙ্গে মুক্তার লকেট পরতে পারেন। তাছাড়া পাথরের টপ বা ছোট ঝুমকা পরতে পারেন। বড় দুল একদম এড়িয়ে চলুন। হাতে হালকা একটা ব্রেসলেট থাকতে পারে। পায়ে আংটি বা পায়েল থাকতে পারে। চুল উঁচু করে পনিটেলও করতে পারেন বা পাঞ্চ ক্লিপ দিয়েও আটকে রাখতে পারেন চুলটা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৩৬,০৭৪
সুস্থ
৬৪২,৪৪৯
মৃত্যু
১০,৭৮১
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
৪,০১৪
সুস্থ
৭,২৬৬
মৃত্যু
৯৮
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories