মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

কুষ্টিয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১

কুষ্টিয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

হঠাৎ করেই কর্মহীন শ্রমজীবীর সংখ্যা বাড়ছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। বেকারত্বের তালিকায় যোগ হতে চলেছে প্রায় ১০ হাজার শ্রমজীবী। আকস্মিক এমন বেকারত্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ব্যাখ্যা রয়েছে অর্থনীতি বিশ্লেষণে।

জানা গেছে, অনিয়মে পরিচালিত ইট ভাটা বন্ধে চলমান প্রশাসনিক অভিযানে বন্ধের পথে দৌলতপুর উপজেলার ইট ভাটাগুলো। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন ইট ভাটার শ্রমিকরা।

ভাটা মালিকদের দেয়া তথ্য মতে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি ইটভাটা রয়েছে। যেখানে কাজ করেন অন্তত ৫ হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক।

এসব ইটভাটায় সরকারি নীতিমালার বাইরে জ্বালানি হিসেবে কয়লার বদলে অবাধে কাঠ পোড়ানো এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন না থাকার দায়ে জরিমানা ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সম্প্রতি গেল ১৮ ও ২০ জানুয়ারি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দু’দফা অভিযান চালানো হয়। ব্যাপক এই অভিযানে জরিমানা করা হয় ৮০ লাখ টাকা। এই ধাক্কায় ভাটা ছেড়ে পালিয়েছেনও অনেক ভাটা মালিক। অনেকেই আবার সাধুবাদ জানিয়েছেন সরকারের এই উদ্যোগকে। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কিছু ভাটায় টুকটাক কার্যক্রম চললেও স্থবির অধিকাংশ।

এমন পরিস্থিতিতে ইট ভাটা বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভাটা মালিকরা। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকটি (মালিক পক্ষ) সুত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খবর সংগ্রহে জানা গেছে, একেকটি ইট ভাটায় অভ্যন্তরীণ ও সংযোগ সুত্রে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা গড়ে ২শ’ ৫০ জন। যার মধ্যে সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থাপনা ধ্বংস ও বিভিন্ন পরিমাণে জরিমানার মুখে পড়া ১৪ ভাটার প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক রীতিমতো কাজের অনিশ্চয়তায়। গণমাধ্যমের সাথে কথা বলা ভাটা শ্রমিকদের জীবিকার বয়স কারোর যুগ, আর কারোর বছরের পর বছর। কেউবা কাজ করেন পুরুষ পরম্পরায়।

দৌলতপুর উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির নেতা রমজান আলী বলেন, আমাদের দৌলতপুরে ২৬ টি ইট ভাটা রয়েছে, যেগুলো ইতোমধ্যেই আমরা যতদ্রুত সম্ভব কয়লা চুল্লিতে রুপান্তরিত হতে নির্দেশনা দিয়েছি। এখানে গত ৫ বছরে ৫টি ইটের ভাটায় খড়ি পোড়ানো শূন্যের কোঠায় আনা হয়েছে, সেগুলো পরিবেশ বান্ধব চুল্লি। পর্যায়ক্রমে সবগুলোই আইনানুগ ভাবে গড়ে তোলা হবে, এই ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে আমাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমাদের ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া শ্রমিকেরা উভয়ই যেন অর্থনৈতিক ভাবে টিকে থাকে সেই প্রত্যাশা করছি।

ইট ভাটা মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুসারে উপযুক্ত জায়গা পাওয়া খুবই দুষ্কর বিষয়। সময় সাপেক্ষও, আমরা আধুনিক পরিবেশ বান্ধব চুল্লী স্থাপন করতে পারলেও, নীতিমালা অনুসারে পরিবেশ বান্ধব জায়গা খুঁজে পাওয়া দায়। এছাড়া দিনমজুর শ্রমিকদের দৈনন্দিন আয়ের বিষয়টি নিশ্চিত রেখে ভাটা আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। আরও বলেন, আমরা দেশের অর্থনীতি ও শ্রম বাজারে অবদান রাখতে চাই। স্কুল-কলেজ রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভাটা রূপান্তরের পাশাপাশি আমাদের উৎপাদন অব্যাহত রাখা দরকার।

দৌলতপুরে সরকারি নীতিমালা না মেনে পরিচালিত ইট ভাটায় স্মরণকালে এটিই সবচেয়ে বড় অভিযান বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।

সাম্প্রতিক অভিযানের আতঙ্কে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার পক্ষে অধিকাংশ ভাটা মালিক। সারাদেশের মতো জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

এসব প্রসঙ্গে জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান মিঠু বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ফিক্সড চিমনি থেকে জিকজাকে এসেছি। শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের কারনে লাইসেন্স পাচ্ছেন না ভাটা মালিকরা, ছাড়পত্রের জন্য আমরা সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে আবেদিত। তিনি জানান, ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইট ভাটা মালিক সমিতির বৈঠক। আমরা আমাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, অনুমোদনহীন ইট ভাটাগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

আরেকদিকে, কয়েক দফা দাবিতে দৌলতপুরের আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির শ্রমিক অসন্তোষ কে ঘিরে গেল ৯ জানুয়ারি থেকে কর্মহীন অন্তত ৫ হাজার বিড়ি শ্রমিক। যদিও সেটি সমাধানের টেবিলে রয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। শ্রমিক অসন্তোষ কে কেন্দ্র করে এর আগেও লম্বা সময় বন্ধ থাকার নজির রয়েছে কারখানাটির।

আনুমানিক ৮ লাখ জনসংখ্যার মধ্যবিত্ত উপজেলাটিতে এমন বেকারত্ব সৃষ্টি হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ ড.আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইট ভাটা এবং বিড়ি কারখানা দুটো বিষয়ই পরিবেশের জন্য মারাত্মক ভাবে ঝুকিপূর্ণ। তবে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে হলে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত সময় হাতে নিতে হবে। সবার আগে দিনমজুরদের বেকারত্ব এড়াতে বিকল্প আয়ের ক্ষেত্র তৈরিতে পর্যাপ্ত সময়-সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে, পরিবেশ বান্ধব ইট ভাটার ব্যবসায় ক্ষুদ্র বা মাঝারি বিনিয়োগকারীর থাকার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন এই অর্থনীতিবিদ। তাঁর মতে, সরকারের নীতিমালা অনুসারে ইট উৎপাদন করতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতি বিশ্লেষক আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, জেলা প্রশাসন-উদ্যোক্তা-জনপ্রতিনিধি এই তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এবং সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত চলে আসা এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া জেলায় ইট ভাটা মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত ২শ’ টি ইটের ভাটায় কাজ করে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ