মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো জাতীয় প্রেসক্লাব

আতাউর রহমান / ৭৭ /২০২০
প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আতাউর রহমান

নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো জাতীয় প্রেসক্লাব

নারীর ক্ষমতায়নে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যরা। দেশ-বিদেশে সাংবাদিক সমাজ নন্দিত হয়েছে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উদাহরণ সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক হিসেবে আবারো প্রমাণ করেছে দেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দুটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা বিপোর্টার্স ইউনিটিতে। দলীয় আদর্শ নীতির উর্ধ্বে ওঠে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও সাংবাদিকরা এই দুটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সভাপতি পদে পদে ৬৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী বর্তমানে গত দুই দফায় চার বছর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন নবনির্বাচিত সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। নানা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে তিনি আজ সাংবাদিকদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পৃথিবীর ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ৪৮ নম্বরে, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভারত, মালদ্বীপ, ভুটান ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১০০, ১০৫, ১০৮, ১১৩, ১২২ ও ১৪৮। বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও বাংলাদেশের অবস্থান ওপরে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শ্রমজীবী নারী ও শিশুদের কল্যাণেই কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু নারী মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন- তা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ ১৯৭২-এর সংবিধান। আর এই সংবিধানের ওপর ভিত্তি করেই নারীর ক্ষমতায়নের নানা ক্ষেত্র তৈরি হয়। তবে এর আগে থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিলেন। বাহাত্তরের সংবিধানে নারীর ক্ষমতায়নের ভিত রচিত হয়। অনুচ্ছেদ ২৭-এ বলা আছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ অনুচ্ছেদ ২৮ এ আছে- ১. ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’ ২. ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে যা কিছু করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় আজ বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধাননমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন ও কার্যকর করছেন। সমাজে নারীর অংশগ্রহণ এবং সুযোগ বাড়ানোর জন্য ’৭২ সালেই বঙ্গবন্ধু সরকার সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ১০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ চালু করেছিলে। নির্যাতিত নারীর পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালেই গঠন করেছিলেন ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড।

এমনি করে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু যখন টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তখনই তিনি নারী শ্রমিকদের শিশুদের জন্য একটি ‘বেবি সেন্টার’ চালু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম বাঙালি হিসাবে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান। জুন ১৯৫৭ সাল হতে ২৩ অক্টোবর ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই সময়ে তিনি নারী শ্রমিক ও তাদের শিশুদের কল্যাণে চালু করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শ্রমজীবী নারী ও শিশুদের কল্যাণেই কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু নারী মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ ১৯৭২-এর সংবিধান। আর এই সংবিধানের ওপর ভিত্তি করেই নারীর ক্ষমতায়নের নানা ক্ষেত্র তৈরি হয়। তবে এর আগে থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিলেন। বাহাত্তরের সংবিধানে নারীর ক্ষমতায়নের ভিত রচিত হয়। অনুচ্ছেদ ২৭-এ বলা আছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ অনুচ্ছেদ ২৮ এ আছে- ১. ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’ ২. ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।’

আবার যেহেতু নারী পিছিয়ে পড়া সমাজের অংশ সেখানে নারীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা সংবিধানে রাখা হয়েছে। ২৮ অনুচ্ছেদের ৪ উপধারায় বলা আছে, ‘নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।’ সমাজে নারীর অংশগ্রহণ এবং সুযোগ বাড়ানোর জন্য ’৭২ সালেই বঙ্গবন্ধু সরকার সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে ১০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশের জন্য সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে নারীর জন্য জাতীয় সংসদের আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই সংরক্ষিত আসনে প্রথমে ১৫ জন নারী সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ জনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ৩০০ আসনেও নারীর অংশগ্রহণে সমান সুযোগ রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের মর্যাদার আসনে ঠাই করে দেন। বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৭৩-১৯৭৮) স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের বিষয়টি প্রাধান্য দেন। তাদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণমূলক কিছু কর্মসূচিসহ শহীদের স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য চাকরি, ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। সব নির্যাতিত নারীর পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালেই গঠন করেছিলেন ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ভেবেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি মন্ত্রিসভায় দুজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

১৯৭৪ সালে নারী উন্নয়ন বোর্ডকে পুনর্গঠন করে সংসদে অ্যাক্টের মাধ্যমে নারী পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনে রূপান্তর করা হয়। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথটি তৈরি হয়। এই সময় নারী উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়। এরমধ্যে জেলা ও থানা পর্যায়ে ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নারীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করা, নারীকে উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডে নিয়োজিত করে তাদের পণ্যের বিক্রয় ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা এবং দিবাযতœ কেন্দ্র চালু করা, ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের চিকিৎসাসেবা চালু করা এবং তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বৃত্তি প্রথা চালু। এটি বর্তমানে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আওতায় ‘দুঃস্থ’ মহিলা ও ‘শিশুকল্যাণ তহবিল’ নামে পরিচালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, নারীর সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে প্রথম নারী সংগঠন জাতীয় মহিলা সংস্থার ভিত্তি রচনা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও তাদের অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত হয় জাতীয় মহিলা সংস্থা। নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য তার উপার্জনের লক্ষ্যে স্বাধীনতার পর নারীকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের। এই প্রেক্ষাপটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চালু করা হয় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। গ্রামীণ নারীরা কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন বলেই তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করার কথা ভাবেন তিনি । এই লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে সাভারে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের ৩৩ বিঘা জমির ওপর চালু করা হয় কৃষিভিত্তিক কর্মসূচি। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তির মূল ভিত্তি নারীর শিক্ষা। নারী শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে জাতির পিতা নারীর জন্য চালু করেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণশিক্ষা কার্যক্রম। নারীরা ব্যাপকভাবে এতে অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের সংবিধানেই নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার আইনে সাধারণ আসনে নারী প্রার্থীর অধিকার ঠিক রেখে প্রতি ইউনিয়নে তিনটি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিধান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপজেলা পরিষদে নারী ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়। সেখানে তারা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরাম (বিজেআরএফ)

Exchange Rate


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৫৪৬,৮০১
সুস্থ
৪৯৭,৭৯৭
মৃত্যু
৮,৪১৬
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories

নামাজের সময়সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:০৯
  • ১২:১৪
  • ১৬:২২
  • ১৮:০৫
  • ১৯:১৮
  • ৬:২০