বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১১:২৬ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

ম্রো সম্প্রদায়কে নিয়ে শুরু করেছে নাটকীয় মানবন্ধন

আকাশ মার্মা মংসিং বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

চিম্বুক পাহাড়ে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের ব্যাপারে ম্রো জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে- এমন দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে বান্দরবানে।

১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চের সামনে ‘বান্দরবানের ম্রো সম্প্রদায়’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, চিম্বুক পাহাড়ে পর্যটন সম্প্রসারিত হলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। যেসব জমিতে হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সেখানে কেউ বসবাস করেনা। কোনো জনবসতিও সেখান থেকে উচ্ছেদ হবেনা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ম্রো জনগোষ্ঠীর বান্দরবান সদরের তংকাবতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পূর্নচন্দ্র ম্রো, মাংসার ম্রো, খাংলাই ম্রো, রাংলাই ম্রো এবং জেলা পরিষদের সদস্য সিয়ং ম্রো সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবর রহমানসহ বেশ কয়েকজন। 

উল্লেখ্য, গেল কয়েকদিন আগে চিম্বুক পাহাড়ে ফাইভ ষ্টার হোটেলে দাবীতে মানব্বন্ধন করলে সূত্রে জানা যায়,

এর আগেও ১৯৯০ সালে সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে সাড়ে ১১ হাজার একর ভূমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণ করেছে, যে ভূমিগুলোরও অধিকাংশ ম্রো আদিবাসীদের ছিল। এছাড়াও, সিকদার গ্রুপ বাংলাদেশে বিতর্কিত একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন খারাপ খবরে এ গ্রুপটি বিতর্কিত হয়েছে। সর্বশেষ এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সিকদার গ্রুপের পরিচালককে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে।

এরকম একটি বিতর্কিত গ্রুপের সাথে সেনাবাহিনী যুক্ত হলে একটা সুসজ্জিত সশস্ত্রবাহিনীর সুনামও ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে একটা এলাকার জনসমর্থন নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ করা যেতেই পারে। কিন্তু এ পাঁচতারা হোটেল ও পর্যটন স্পট তৈরীর প্রক্রিয়াটি ব্যক্তি বা ব্যবসায়ের স্বার্থে ভূমি বেদখল করে প্রায় ৭০ থেকে ১১৬ টি ম্রো আদিবাসী গ্রামের প্রায় ১০ হাজার জনের উদ্বাস্তু হওয়ার দিকে ঠেলে দেওয়ার এ অপচেষ্টা কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কখনই কাম্য নয়। নীতিগত ও আইনগত দিক দিয়েও একটা এলাকার জনগোষ্ঠীর সমর্থন না নিয়ে অবৈধভাবে নিজেদের হীন ব্যবসায়ের স্বার্থে এত বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে উদ্বাস্তু করার অপচেষ্টা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়।

সিকদার গ্রুপের এই হোটেল নাইতং পাহাড়ে নির্মাণ হলে প্রত্যক্ষভাবে ম্রোদের চারটি পাড়া এবং পরোক্ষভাবে ৭০-১১৬টি পাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

পাঁচ তারকা এই হোটেল নির্মাণ হলে প্রায় ১০ হাজার জুমচাষি উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে পরবেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ