বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথের এমএন প্রেস!

রেফুল করিম
প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০
সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথের এমএন প্রেস

সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথের এমএন প্রেস! কুষ্টিয়ায় কুমারখালীতে দেড় বৎসরের অধিক পুরাতন কাঙাল হরিনাথের বাড়িতে ‘মথুরানাথ প্রেস’ এমএন প্রেস অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে।

গ্রামবার্তা প্রেস তার জন্মকাল থেকে প্রথম দশ বছর প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার ‘মৃজাপুর অপর সার্কিউলার রোড’ – এর ‘গুরিশ বিদ্যারত্ন যন্ত্র’ থেকে মুদ্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে কুমারখালীতে মথুরানাথ প্রেস স্থাপিত হলে, গ্রামবার্তা সেই প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হতো।

গ্রামবার্তায় প্রকাশিত এক তথ্যে জানা যায়, ‘আমরা…. নানাবিধ বিপত্তি অতিক্রম পূবর্বক দশ বৎসরের চেষ্টা ও পরিশ্রমে কুমারখালীতে গ্রামবার্তা মুদ্রাঙ্কনের কার্য্য সম্পাদন করিতে সমর্থ হইলাম। ‘ — – এই বক্তব্য এই তথ্যকেই প্রতিষ্ঠা দেয় যে, কুমারখালীতে প্রেস স্থাপনের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফল হয়েছিল দশ বৎসর পর। এ প্রচেষ্টা হরিনাথের একার নয়। হরিনাথের সাথে অনেকের এবং অনেকের সঙ্গে হরিনাথের। কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথের নামে একটি জাদুঘর নির্মাণ হলেও এই ঐতিহাসিক প্রেসটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়নি।

রাজশাহীর রাজীবলোচন মজুমদার দেওয়া ৬০০ টাকা ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে সাহায্য নিয়ে প্রেস ক্রয়ের টাকা সংগৃহীত হয়েছিল। বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে প্রেস কেনার নিমিত্ত যে সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল, তার প্রমাণ গ্রামবার্তা প্রকাশিকার নিন্মলিখিত সংবাদঃ

গ্রামবার্তা হিতৈষী ডাহাপাড়া নিবাসী শ্রীযুক্ত বাবু উমাচরণ সরকার মহাশয় মুদ্রাযন্ত্র সংস্থাপনার্থ একদা ৫ পাঁচ টাকা দাবি করিয়াছেন। বিদ্যারত্ন প্রেসের মালিক গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন নিজেও এই গ্রামবার্তার প্রেস স্থাপনের জন্য ‘নিজ হইতে কিছু টাকা ও যন্ত্রের অনেক উপকরণ’ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। স্বভাবতই হরিনাথ এই প্রেসের নিরঙ্কুশ মালিকানার অধিকারী ছিলেন,এ তথ্য প্রশ্নতীত প্রতিষ্ঠা পায় না। আর এ জন্যই হরিনাথ — গিরিশচন্দ্র বিদ্যরত্নের অনুকরণে প্রেসের নাম করণ নিজের নামে করেননি। প্রেসের নামকরণ করেছিলেন মথুরানাথ প্রেস।

অনেকের ধারণা প্রেসের নামকরণ হয়েছিল মথুরানাথ কুন্ডু কিংবা মথুরানাথ মৈত্রের( অক্ষয় কুমার মৈত্রের পিতা) নামে।

হরিনাথ স্পষ্টভাবেই গ্রামবার্তায় লিখেছিলেনঃ আমরা মুদ্রাযন্ত্র কি নামে অভিহিত হইবে ভাবিতেছিলাম, ইতিমধ্যে আমাদের এক মৃত বন্ধু কথা মনে হইল। তিনি যে প্রকার পরোপকারী মহান্তঃকরণ এবং সাধারণের বিশেষতঃ

গ্রামবার্তার বিশেষ বন্ধু ছিলেন, তাঁহার নিকট যথোচিত কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিবার এই এক সুযোগ উপস্থিত। নিঃসন্তান ব্যক্তির নাম চিরস্মরণীয় করিবার অন্য উপায় নাই। গ্রামবার্তা এবং তাহার বন্ধু গণ মুদ্রা যন্ত্র দ্বারা সেই কার্য্য সংকল্প করিয়া এই যন্ত্রের নাম ‘মথুরানাথ যন্ত্র’ রাখিলেন।

গ্রামবার্তার এই ‘বিশেষ বন্ধু’ গতায়ু ‘ নিঃসন্তান ব্যক্তির নাম ছিল মথুরানাথ মজুমদার।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, প্রেসের নাম ‘ মথুরানাথ প্রেস ‘ রাখার সিদ্ধান্ত হরিনাথ সহ গ্রামবার্তার ‘বন্ধু গণ’ — এর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হিসেবেই উঠে এসেছিল।

মূলত এই প্রেসের মুদ্রণ যন্ত্রটি ১৮৫১ সালে লন্ডনের ফিনসবেরই স্ট্রীটের CLYMBER DIXON & COMPANY তে কলম্বিয়া ঈগল প্রেস নির্মিত হয়েছিল। ১৮৫১ সালে লন্ডন থেকে প্রেসটি কলকাতায় ক্রয় করে এনেছিল। পরে এ মুদ্রণ যন্ত্রটি কলকাতার এক জঙ্গলকীর্ণ অঞ্চলে স্থাপন করে ব্রিটিশ বিরোধী প্রচার -পুস্তিকা ছাপা হতো।ব্রিটিশ সরকারের পুলিশই তল্লাশি করে এই যন্ত্রটি উদ্ধার করে নিলামে বিক্রি হয়েছিল। ছাপা যন্ত্রটি নিলামে কিনে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের তথা গ্রামবার্তার কলকাতার বন্ধুগণ কুমারখালীর কাঙাল হরিনাথ মজুমদার কে উপহার দিয়েছিলেন।এই প্রেসটি প্রথমে কুমারখালি প্রেস নাম ছিল । পরে পরিচিত করার জন্য M N PRESS বা মথুরানাথ প্রেস নাম করন করা হয়েছিল। হরিনাথের বিখ্যাত পত্রিকা “গ্রামবার্তা “বাংলার প্রথম উপন্যাস হরিনাথের” বিজয় বসন্ত” সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের “বিষাদ সিন্ধু” এই মথুরানাথ প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। হরিনাথের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে প্রেসটি দেখাশুনা করতেন।

আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছে, বর্তমানে এই ঐতিহাসিক যন্ত্রটি জীর্ণশীর্ণ পরিবেশে কাঙাল কুঠিরে পড়ে আছে। এমনকি যে ঘরে যন্ত্রটি পড়ে আছে সেই ঘরে ছাদও নেই প্রতিনিয়তও ঝড় বৃষ্টি রোদে যন্ত্রটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথের এমএন প্রেস!”

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ