বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

যে কারণে লোকসানে রেণউইক যজ্ঞেশ্বর!

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

যে কারণে লোকসানে রেণউইক যজ্ঞেশ্বর!

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেনউইক যজ্ঞেশ্বর দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে ডুবতে বসেছে। ৫ বছর পর লোকসানে গেল। এজন্য বর্তমান চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহাকে দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ৩০ জুন ২০২০ এ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষকের প্রতিবেদনের উপর ‘কোয়ালিফাইড ওপেনিয়ন’ -এ কোটি কোটি টাকার অনিয়মের কথা জানিয়েছে। এসব  টাকার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এর মধ্যে সরকারের কাছ থেকে ইক্যুইটি সহায়তা, চীন থেকে নেওয়া ঋণ এবং সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন থেকে প্রাপ্ত অর্থ রয়েছে। কোনটিরই সঠিক হিসাব নেই। এমনকি রাজস্ব (মূল্য সংযোজন কর) দেয়ার কথা জানালেও তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়নি। এমন অসংখ্য দুর্নীতি ধরা পড়েছে। 

অডিটর বলছে, ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অনাদায়যোগ্য দেখিয়েছে। এছাড়া ব্যবসায় পাওনা বাবদ ৩১ কোটি টাকা দেখিয়েছে। এগুলোর কোন সসন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা কাগজপত্র দিতে পারেনি রেণউইক যজ্ঞেশ্বর ম্যানেজমেন্ট৷ এমনকি সরকারের রাজস্ব বাবদ ৪৪ লাখ টাকা কেটে রাখলেও তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়নি। ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। 

এছাড়াও বাংলাদেশ চিনি খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বিভিন্ন চিনি কোম্পানির ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।বাংলাদেশ চিনি খাদ্য শিল্প করপোরেশনের রেনউইক যজ্ঞেশ্বর-এর চেয়ারম্যানও। অথচ তিনি অন্যান্য চিনি কলগুলো থেকে পাওনা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন।    

জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের ৩য় প্রান্তিক পর্যন্ত মুনাফা দেখিয়ে বছর শেষে লোকসানী ঘোষণা করা হয়েছে। অবশেষে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা। পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রেণউইক যজ্ঞেশ্বর এমনই উদ্ভুত ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া কোম্পানির নিজস্ব কোন ওয়েবসাইট না থাকায় বিনিয়োগকারীরা সঠিক তথ্য জানতে পারছে না। বিএসইসি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছে প্রতিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির একটি করে নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক।      
কোম্পানিটি ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। এই প্রথম ছন্দপতন ঘটালেন সনৎ কুমার সাহা।

৩য় প্রান্তিক পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৫৯ পয়সা। আর বছর শেষে অবিশ্বাস্যভাবে শেয়ার প্রতি লোকসান দেখিয়েছে (৩২.৩৫) ৩২ টাকা ৩৫ পয়সা। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের এ ধরণের আর্থিক প্রতিবেদনে হতাশ হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

যেখানে বেসরকারি খাতে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণার পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তাদের তলব করে ডিভিডেন্ড দেয়ার পরামর্শ দেয়। এনভয় টেক্সটাইল ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার পরও তাদেরকে আরও লভ্যাংশ বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেণউইক যজ্ঞেশ্বর বিএসইসির সাম্প্রতিক উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে বলে মনে করেন বিনিয়োগকারীর।

৩য় প্রান্তিক পর্যন্ত মুনাফায় থাকার পরও হঠাৎ কেন এত বড় লোকসান জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব জেবুন নাহার  বলেন, কি কারণে ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করা হয়েছে সেটি ব্যাখ্যা দিতে পারবো না।

কোম্পানির চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা বলেন, কি কারণে লোকসানে এর জবাব দিতে বাধ্য নই। আপনার বিএসইসির কাছে জিজ্ঞেস করুন। অথবা অডিটরকে জিজ্ঞেস করুন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারিকরণ করা গেলে কোম্পানি মুনাফার মুখ দেখতে পারবে। এতে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়বে। সরকারের উচিত এসব কোম্পানি দ্রুত প্রাইভেটাইজেশনে যাওয়া।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ. কে. এম. মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, কোম্পানিটিকে অতিদ্রুত বেসরকারি খাতে দিয়ে দেয়া হউক। অন্যথায় সরকার ও বিনিয়োগকারী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রসঙ্গতঃ শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনউইক যজ্ঞেশ্বর লিমিটেড।

গত ২৭ অক্টোবর ৩০ জুন ২০২০ সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সর্বশেষ অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৩২ টাকা ৩৫ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ৮ পয়সা।

সূত্র জানায়, ১৮৮১ সালে ৩৭ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয় কুষ্টিয়ার রেণউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড নামক রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি। শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি বেশ লাভজনক অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে। 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ