মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতি এবং আইএলও কনভেনশন অনুসাক্ষরের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০
Bils ILO convention 189

গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতি এবং আইএলও কনভেনশন অনুসাক্ষরের আহ্বান

গৃহশ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত, শ্রমিক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তাদের সংগঠিত করতে আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসাক্ষর করা জরুরি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিলস্ ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর যৌথ উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র সহযোগিতায় “গৃহশ্রমিকদের শোভন কাজ সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসমর্থনের প্রয়োজনীয়তা ও করণীয়” শীর্ষক গণমাধ্যম কর্মী ও সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিলস্ মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, এমপি, স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেবার রাইটস জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাজী আব্দুল হান্নান, সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম সমন্বয়কারী শহিদুল্লাহ চৌধুরী, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বাংলা বিভাগের প্রধান রুহুল গনি জ্যোতি, বিএসএস এর নিউজ এডিটর আউয়ুব ভূঁইয়া, লেবার রাইটস জার্নালিস্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আমানুর রহমান প্রমুখ। মতবিনিয় সভার সঞ্চালনা করেন লেবার রাইটস জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, এমপি বলেন, “আইএলও কনভেনশন-১৮৯ যে সম্মেলনে গৃহীত হয়েছে সেখানে সভাপতি ছিলো বাংলাদেশ। সে হিসেবে এ কনভেনশন অনুসাক্ষরে আমাদের দায়িত্ব আরো বেশি”। তিনি বলেন গৃহশ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই তাদের অধিকাংশ অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব। শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তাদের পরিচয় পত্র, মজুরি, কর্মঘন্টা ও কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। সংবিধানে নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন সংবিধান সংরক্ষণ এবং মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে সকলকে সচেতন এবং সোচ্চার হতে হবে।

মুল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১৬-১৭ অনুযায়ী দেশে গৃহস্থালি কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকের সংখ্যা ১৩ লাখ এবং আইএলও’র হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে গৃহশ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ, যার ৮০% নারী এবং বিদেশেও ৮ লাখেরও বেশি গৃহশ্রমিক নিয়োজিত আছে। এরা কোন দেশের শ্রম আইনেই শ্রমিক হিসাবে কোন প্রকার স্বীকৃতি ছাড়াই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এই বিপুল পরিমান শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছে, রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। আবার তাদের সাথেই প্রতিনিয়ত নানা প্রকার হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

মুল প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয় বিল্স-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সারা দেশে মোট ৫১ জন গৃহশ্রমিক নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছে ১৭জন। বিদেশে কাজ করতে যাওয়া নারী শ্রমিকের অবস্থা আরও করুণ। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমান নারী শ্রমিক বিদেশে যায়, যাদের বেশির ভাগই যায় গৃহশ্রমিক হিসেবে। ২০১৯ সালে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ৬২ হাজার নারী শ্রমিক। বিমান বন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চার বছরে বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ৪১০ নারী লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৩ জন। তাদের ৩৯ জন আত্মহত্যা করেন এবং ৬৯ জন মারা গেছেন দুর্ঘটনায়-যার কারন কেউ জানেনা বা কোথাও উল্লেখ নেই। শ্রমিক প্রেরণকারী এবং গ্রহণকারী কোন দেশই আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসর্মথন না করায় এ সমস্ত শ্রমিকেরা কোথাও বিচার বা ক্ষতিপূরন পায়না। এমনকি দাবীও করতে পারেনা।

গৃহশ্রমিকদের জন্য শোভন কাজ সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন-১৮৯ বিগত ২০১১ সালের আইএলও কনফারেন্সে গৃহীত হয়। এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে গৃহশ্রমিক প্রেরণ ও গ্রহণকারী মোট ৩০টি রাষ্ট্র এই কনভেনশনটি অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ এই কনভেনশনে সাক্ষর করলেও এখনও অনুসমর্থন করেনি।

শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, এমপি বলেন, গৃহশ্রমিকরা বেশিরভাগই শিক্ষিত মানুষদের ধারাই নির্যাতিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সকলের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। এর জন্য সমাজের দর্পন হিসেবে সাংবাদিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

গৃহ কাজের মর্যাদা নিশ্চিত হলেই গৃহশ্রমিকের মর্যাদা নিশ্চিত হবে উল্লেখ করে রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গৃহশ্রমিকদের অনেক অবদান রয়েছে। বিদেশে গিয়েও তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। রেমিট্যান্সে অবদান রাখা এসব শ্রমিক নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিদেশ থেকে লাশ হয়ে ফেরত আসছে কিন্তু এর জন্য কোন ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাচ্ছে না। গৃহশ্রমিক কল্যাণ ও নীতিমালাকে আইনে রুপান্তরের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতির জন্য নীতিমালাকে আইনে পরিণত করা প্রয়োজন। কারণ আইন মানতে সবাই বাধ্য।

শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গৃহশ্রমিকদের সংগঠিত করতে না পারলে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই তাদেরকে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে।

ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, গৃহশ্রমিকরাও মানুষ এটা মাথায় রাখলেই আইএলও কনভেনশনের অধিকাংশ শর্ত পালন হয়ে যায়। তাদের প্রতি মানবিক আচরন করলেই গৃহশ্রমিকদের শোভন কাজ নিশ্চিত করা সম্ভব।

আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসাক্ষরে আইএলওকে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে উল্লেখ করে আবুল হোসাইন বলেন, একমাত্র কঠোর আন্দোলন ছাড়া গৃহশ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত সম্ভব নয়।

রিয়াজ চৌধূরী বলেন, গৃহশ্রমিকদের প্রতি আমরা এখনো মানবিক হতে পারিনি। আমরা প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে দেখছি গৃহশ্রমিকরা নির্যাতিত হচ্ছে। গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষার জন্যই আইএলও কনভেনশন-১৮৯ গৃহীত হয়েছে। তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসাক্ষর করা জরুরি। এটা অনুসাক্ষর করলে শুধু দেশেই নয় বিদেশেও আমাদের যেসব নারী শ্রমিক গৃহশ্রমিকের কাজ করে তাদেরও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ