শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

৩২ নম্বর রোডের বাড়িটি

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

৩২ নম্বর রোডের বাড়িটি। লেখাটি জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষেতুলে ধরা হলো। সংগৃহীত।

ডেস্ক প্রতিবেদনঃ ধানমন্ডি লেকের পাড়ে ৩২ নম্বর রোডের মাঝামাঝি এলেই শোনা যায় কোরআনখানির সুমধুর সুর। এই বাড়িটির মালিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৃশংসভাবে সপরিবার নিহত হওয়ার ছয় বছর পর তাঁর জীবিত দুই উত্তরাধিকারীর একজন জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদকে সরকার থেকে বাড়িটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ছয় বছরে এ বাড়িটি পুলিশি পাহারায় ছিল।
গুলিবিদ্ধ বাড়ির দেয়ালগুলো নতুন করে রং করা হলেও ভেতর এখনো অপরিষ্কার। দোতলায় যাওয়ার সিঁড়িটি এখন বন্ধ করা আছে, পতাকায় আচ্ছাদিত সিঁড়িটিতে শেখ হাসিনা আকুল হয়ে কেঁদেছেন, ‘বাবা, বাবা গো, তুমি কোথায়?’ এই সিঁড়িতে এখনো বঙ্গবন্ধুর রক্তের চিহ্ন বেশ স্পষ্ট।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিচের যে ঘরে বসতেন, পড়াশোনা করতেন, সে ঘরগুলো খোলা ছিল। এখনো বইয়ের আলমারিতে চাবি ঝুলছে, টেলিফোনটা অকেজো। কিন্তু তাঁর শেষ ছোঁয়ার চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে বই, টেবিল-চেয়ারে। রান্নাঘরের পাশ দিয়ে উঠে যাওয়া যে সিঁড়িটি ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত হতো, সেটি দিয়েই এখন ওপরে যাওয়ার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। আরেকটি কাঠের সিঁড়ি গাড়িবারান্দার কাছ দিয়ে ওপরে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো শেখ হাসিনা ওপরে উঠে সব ঘর দেখার মতো মানসিক শক্তি জোগাড় করে উঠতে পারছেন না।
ইতিমধ্যে এই বাড়িটি দর্শনীয় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সবাই গভীর দুঃখ নিয়ে দেয়ালে বুলেটবিদ্ধ ছবি, তছনছ করে দেওয়া বাড়ির দরজা-জানালা, ছিন্নবিচ্ছিন্ন টেলিভিশনের তার—এসব দেখছিলেন, দেখছিলেন শেখ হাসিনার শোকবিহ্বল চলাচল, শরিক হচ্ছিলেন মিলাদে। বাড়িটি এখনো আগের মতোই রয়েছে।
বাড়িটির ওপরতলা শিগগিরই সাংবাদিকেরা দেখবেন। তারপর সাধারণ দর্শকের জন্য খুলে দেওয়া হবে ঘরগুলো। যাঁরা ইতিমধ্যে দেখেছেন, তাঁরা বলছেন, এ এক করুণ দৃশ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শয়নঘরে বাড়ির সদস্যদের একসঙ্গে পেয়ে সেখানেই তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল। দেয়ালে এখনো রক্তের চিহ্ন রয়ে গেছে। সব ঘরবাড়ি, দেয়াল, জিনিসপত্র নিষ্ঠুর আঘাতে জর্জরিত।
৩২ নম্বর রোডের বাড়িটির নিচতলায় বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা সাময়িকভাবে হয়েছে, ওপরতলা এখনো অন্ধকারে নিমজ্জিত। শেষবারের মতো বাড়িটির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সেই সব উত্তাল দিনে ‘ভায়েরা আমার’ ডাকের স্মৃতিচারণা করতে করতে ফিরে এলাম।

২১ জুন ১৯৮১, সচিত্র সন্ধানী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ