রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নেতার বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৫৩২ /২০২১
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

করোনার প্রভাবে খাদ্যে কষ্টে থাকা গরীব মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে ত্রাণ দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গত ৪ এপিল ত্রাণ বিতরন করে। ত্রাণ বিরতনের জন্য ঢাকার দক্ষিণখান গাওয়াইরে একটি হোটেলে আসেন সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। তিনি যতক্ষণ ছিলেন অসহয় গরীব পরিবারের অনেকে ত্রাণের একটি প্যাকেট তার হাত থেকেই পেয়েছে। আসাদুজ্জামান নূর চলে যেতেই পরিস্থিতি সম্পূর্ন পালটে যায়।

জানা গেছে, শফিকুল গনি নামের জোটের এক নেতা কোন কারণ ছাড়াই ত্রাণ দেওয়া বন্ধ করে সব প্যাকেট নিয়ে হোটেলের ভিতর চলে যান। ত্রাণের আশায় রোদের মধ্যে তখন প্রায় দু’শত নারী-পুরষ দাঁড়িয়ে ছিলো।

জোটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয় অসহায়দের মাঝে ২০০ প্যাকেট ত্রাণ বিরতণ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আসাদুজ্জামান নূর নিজে হাতে যে ত্রিশটি পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছিলেন তারাই সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ত্রাণ পেয়েছে। ত্রাণের জন্য নির্ধারিত বাকি প্যাকেট শফিকুল গণির নেত্রীত্বে পেছনের দরজা দিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই এই প্রতিবেদকের কাছে জানিয়েছেন, ত্রাণের জন্য তাদের কাছে কার্ড থাকা স্বত্তেও দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তারা কোন ত্রাণ পায়নি।

রাবেয়া নামের এক নারী জানান, ত্রাণ পাবার আশায় সকাল ৯ টা থাকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে বাকের ভাই (আসাদুজ্জামান নূর) আসলে প্যাকেট দেওয়া শুরু হয়। সে সময় টিভির ক্যামেরায় সবার ছবিও তোলা হয়। তিনি চলে যেতেই নীল পাঞ্জাবী পরা লোকটি (শফিকুল গনি) আমাদের সাথে দূর ব্যবহার শুরু করে ত্রাণ দেওয়া বন্ধ করে সব প্যাকেট নিয়ে হোটেলের ভিতর চলে যায়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও আর পরে কোন ত্রাণ পায়নি। কাসেম নামের এক পুরুষ জানান, আমার গরীব বলেই এখানে ত্রাণ নিতে এসেছি। কিন্তু যারা অভিনয় করে তারাই আমাগো লগে চাল দেওয়ার অভিনয় করলো।

প্রত্যক্ষ একজন জানান, বেলা বাড়তেই শফিকুল গনি সব প্যাকেট নিজেরে বাসায় নিয়ে যান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়াতে জোটের ভাবমূর্তি নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

অভিযোগের ব্যাপারে শফিকুল গনি বাংলাদেশ প্রতিবেদন-কে বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সব ত্রাণের প্যাকেট পরবর্তীতে বিতরণ করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে ত্রাণ দেয়া হয়। সংগঠনের অর্থে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। এখানে আমার নিজের টাকা আছে। এটি সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগ। ব্যক্তি জীবনে আমি একজন শিক্ষক। আমার পক্ষে কোন অনিয়ম করা সম্ভব নয়, এটি সবাই জানে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ঢাকা উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান ত্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছে স্বীকার করে বাংলাদেশ প্রতিবেদন-কে বলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় তহবিল এবং স্থানীয় কর্মীদের উদ‌্যোগে ত্রাণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। এখানে সরকারি কোন অর্থ নেই। আসাদুজ্জামান নূর বিদায় নেয়ার পর ত্রাণ বিতরণ স্থগিত করা হয়েছিল এটি সত্য। পরে আবার সবগুলো প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বাংলাদেশ প্রতিবেদন-কে বলেন, হয়তো পরেরদিন বাকী ত্রাণ দেয়া হয়েছে। আগেই তালিকা করা থাকে কারা পাবে ত্রাণ। সেজন্য হয়তো না পেয়ে কেউ অভিযোগ করতে পারে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৭৯,৭৯৬
সুস্থ
৭২১,৪৩৫
মৃত্যু
১২,১২৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories